শিপিং সংকটে বিপাকে ভারতের কফি রফতানি খাত

ইরান সংঘাত ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত থাকায় বড় ধরনের সংকটে পড়েছে ভারতের কফি রফতানি খাত।

বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম কফি উৎপাদনকারী দেশটি তাদের মোট উৎপাদনের প্রায় ৭০ শতাংশই রফতানি করে। তবে বর্তমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতায় পশ্চিম এশিয়ার বাজারে ভারতের কফি রফতানি প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা মনে করছেন, শিপিং রুটগুলো অনিরাপদ হয়ে ওঠায় এবং যাতায়াত খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিদেশী ক্রেতারা এখন বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকছেন। খবর নিক্কেই এশিয়া।

গত এক দশকে ভারত সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, জর্ডান ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলোয় তাদের কফির বাজার ব্যাপকভাবে বিস্তার করেছে। কফি এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার সভাপতি রমেশ রাজা জানিয়েছেন, অধিকাংশ কফি জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করে। বর্তমানে যুদ্ধের কারণে এ রুটে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক চালান মাঝপথে আটকে আছে কিংবা বিকল্প পথে ঘুরিয়ে নেয়া হচ্ছে। ফলে পণ্য পৌঁছতে যেমন দেরি হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে পরিবহন খরচ।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি থেকে পরিবহন ভাড়া বা ফ্রেইট চার্জ প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে গিয়ে ভারতীয় রফতানিকারকরা এ বাড়তি খরচ ক্রেতাদের ওপর চাপাতে পারছেন না। ফলে তাদের লভ্যাংশ কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি কফিচাষীরা এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সরবরাহ ব্যবস্থায় এ অনিশ্চয়তা কতদিন চলবে, তা নিয়ে রফতানিকারকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

কফি বোর্ড অব ইন্ডিয়ার তথ্যমতে, ভারত বছরে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ ৭০ হাজার টন কফি উৎপাদন করে। গত অর্থবছরে কফি রফতানি থেকে ভারতের আয় হয়েছিল ২১০ কোটি ডলারেরও বেশি। ভারতের উৎপাদিত রোবাস্তা ও মনসুনড মালাবারের মতো বিশেষ জাতের কফি ইউরোপ এবং এশিয়ার বাজারে বেশ জনপ্রিয়। এমনকি জাপানে ইনস্ট্যান্ট কফির একটি বড় উৎস হলো ভারত।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকছেন। অনেক ইউরোপীয় ক্রেতা এখন উগান্ডার মতো দেশগুলো থেকে কফি কেনা শুরু করেছেন। যদি দ্রুত এ সংকটের সমাধান না হয়, তবে ভারত তার দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত বাজার হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে। বিশেষ করে রমজানের সময় যখন মধ্যপ্রাচ্যে কফির চাহিদা তুঙ্গে থাকে, সে সময়েই এ সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়ছে। ভারতের বাগান মালিক ও রফতানিকারকরা এখন সরকারের হস্তক্ষেপ এবং পরিস্থিতির উন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন।

আরও